বিশ্বব্যাপী শস্যের সমাপনী মজুদ গত এক দশক ছিল নিম্নমুখী। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কিছুটা বাড়তে পারে। সর্বশেষ ‘গ্রেইন মার্কেটস রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি)। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী শস্যের (গমসহ অন্যান্য দানাদার শস্য) সমাপনী মজুদ হতে পারে ৫৮ কোটি ৫০ লাখ টন, যা এর আগের বছরের তুলনায় ৪০ লাখ টন বেশি। এর মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ শস্য রফতানিকারক দেশগুলোয় মজুদ বেড়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টন।
আইজিসি জানিয়েছে, আগামী অর্থবছর বিশ্বব্যাপী মোট শস্য উৎপাদন হতে পারে ২৩৭ কোটি ৫০ লাখ টন, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাষ্ট্রেও উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ভুট্টার উৎপাদন বাড়তে পারে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময় মোট উৎপাদন পৌঁছতে পারে ১২৭ কোটি ৭০ লাখ টনে।
সামনের দিনগুলোয় দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় সয়াবিন উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মোট শস্য উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশ্বব্যাপী মোট সয়াবিন উৎপাদন ২ শতাংশ বেড়ে ৪২ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছবে। এছাড়া পশুখাদ্য, খাদ্য ও শিল্প খাতে সয়াবিন পণ্যের চাহিদা বাড়ার কারণে প্রক্রিয়াজাতও বাড়বে রেকর্ড পরিমাণ।
বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বাড়ার কারণে খাদ্য, শিল্প ও পশুখাদ্য খাতে চাহিদা বাড়ছে শস্যের। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছর বিশ্বব্যাপী শস্যের ব্যবহার বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইজিসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ সময় মোট ব্যবহার পৌঁছতে পারে ২৩৭ কোটি ২০ লাখ টনে। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী শস্যের মোট আমদানি-রফতানি পৌঁছতে পারে ৪২ কোটি ৮০ লাখ টনে, যা গত মৌসুমের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি।
আইজিসির দেয়া তথ্যমতে, ‘আগামী অর্থবছর চীনের সয়াবিন আমদানি প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও এশিয়ার অন্যান্য দেশ ও আফ্রিকা থেকে বড় অর্ডার আসবে। ফলে এ সময় বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।’
ভারতসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশে বেশ কয়েক দিন ধরেই চাল উৎপাদন ও মজুদ রেকর্ড বেড়েছে। আগামী অর্থবছর তা আরো বেড়ে ৪৯ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এর মধ্যে চীন ও প্রধান রফতানিকারক দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত। চাল বাণিজ্য ২০২৬ সালে ২ শতাংশ বাড়বে। এ বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রাখবে আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোয় আমদানি বৃদ্ধি।
আইজিসির শস্য ও তেলবীজ মূল্য সূচক এপ্রিলের প্রতিবেদনের তুলনায় কিছুটা কমেছে। এর পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে ভুট্টার সূচক হ্রাস। এ সময় শস্যটির মূল্য সূচক কমেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। মাস ভিত্তিতে শস্য ও তেলবীজ সূচক কমেছে প্রায় ১ শতাংশ এবং মে মাসের সূচক গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ কমেছে।